হামজার জোড়া গোলে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ
নেপালের বিপক্ষে ফিফা ফ্রেন্ডলি ম্যাচে যেন জাদুর মতো বদলে গেল বাংলাদেশের খেলা। বিরতিতে ১-০ গোলে পিছিয়ে থাকা বাংলাদেশ দ্বিতীয়ার্ধের পাঁচ মিনিটের মধ্যেই লিড নিয়ে নেয় দেশের ফুটবলের নতুন পোস্টার বয় হামজা চৌধুরীর জোড়া গোলে।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আসে সমতার গোল। ফয়সাল ফাহিমের ক্রস ক্লিয়ার করতে গিয়ে ভুল করে বসেন সুমিত শ্রেষ্ঠা। বল চলে আসে অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়ার পায়ে। তিনি উঁচু করে তুলে দেন বক্সে। সেখানেই দূরহ কোণ থেকে চোখধাঁধানো বাইসাইকেল কিকে বল জালে পাঠান হামজা চৌধুরী। পুরো স্টেডিয়াম তখন উল্লাসে ফেটে পড়ে।
এরপর নাটকীয়তা আরও বাড়ে। ম্যাচের ৪৯তম মিনিটে বক্সে রাকিব হোসেনকে ফাউল করে বসে নেপালের রক্ষণভাগ। দেরি না করে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। সেখান থেকে দলকে এগিয়ে নিতে কোনো ভুল করেননি হামজা। নিখুঁত শটে লক্ষ্যে পাঠিয়ে বাংলাদেশকে ২–১ গোলের লিড এনে দেন তিনি। এ নিয়ে দেশের হয়ে পাঁচ ম্যাচে চার গোল করেছেন এই তারকা মিডফিল্ডার।
এর আগে প্রথমার্ধে ছিল বাংলাদেশের নিরাসাজনক পারফরম্যান্স। ২৯ মিনিটে সুমিত শ্রেষ্ঠার গোলে এগিয়ে যায় নেপাল। গোল খাওয়ার পর কিছুটা আক্রমণাত্মক হয়ে উঠলেও জালের দেখা পায়নি লাল–সবুজরা।
১০ মিনিটেই এগিয়ে যেতে পারত বাংলাদেশ। জামালের উঁচু করে বাড়ানো বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ডান দিক থেকে ক্রস করেছিলেন ফাহিম। গোলমুখে দাঁড়িয়ে থাকা সোহেল রানা জুনিয়র মাথা ছুঁইয়ে দিতে ব্যর্থ হন।
২৬ মিনিটে আরেকটি সুযোগ নষ্ট করেন ফাহিম। বক্সে বল পেয়ে দ্বিধায় পড়ে যান—নিজে শট নেবেন নাকি রাকিবকে দিবেন। শেষ পর্যন্ত তার দুর্বল শট নেপালের গোলরক্ষক কিরণ কুমার লিম্বু সহজেই রুখে দেন।
এর তিন মিনিট পর পাল্টা আক্রমণে নেপালের গোল। বাম দিক থেকে সুমিত শ্রেষ্ঠার ব্যাক পাস ধরে রোহিত চাঁদ বাঁ পায়ের জোরালো শটে ব্যবধান তৈরি করেন।
৩৬ মিনিটে আবারো সুযোগ আসে ফাহিমের সামনে, কিন্তু তার শট ঠেকিয়ে দেন অনন্ত তামাঙ। ফলে প্রথমার্ধ শেষ হয় বাংলাদেশের হতাশায়।
কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই বদলে যায় সবকিছু। একাই ম্যাচ ঘুরিয়ে দেন হামজা চৌধুরী, উল্লাসে ভাসান পুরো গ্যালারি।