কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে মানববন্ধনে স্লোগান ‘বর তুমি কার’
আনোয়ার সাঈদ তিতু,
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:-
কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী উপজেলায় এক প্রবাসী যুবকের বিরুদ্ধে মোবাইল ফোনে বিয়ে ও একাধিক সম্পর্ক গড়ে তোলার অভিযোগে উঠেছে।
এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক অস্থিরতা দেখা দিলে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন। রোববার (১২ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১১টায় কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের বড়লই জকরিয়াটারী গ্রামে অভিযুক্ত যুবকের বাড়ির সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ অংশ নেন। তারা অভিযুক্ত ছেলের ছবিসংবলিত পোস্টার ও ফেস্টুন হাতে নিয়ে ‘বর তুমি কার?’
স্লোগানে পুরো এলাকা তোলপাড় করেন। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বিয়ের নামে প্রতারণা ও একাধিক সম্পর্ক গড়ে তোলার অভিযোগ অত্যন্ত নিন্দনীয়। এটি শুধু পারিবারিক নয়, সামাজিক মূল্যবোধের ওপরও আঘাত হানছে। তারা দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেন। এলাকাবাসী জানায়, ওই গ্রামের মৃত আবেদ আলী দর্জির দ্বিতীয় ছেলে মোঃ বাবু মিয়া দীর্ঘদিন ধরে দুবাইয়ে অবস্থান করছেন।
অভিযোগ রয়েছে, প্রবাসে থাকাকালীন তিনি একই গ্রামের জয়নাল দর্জির মেয়ে জিম খাতুনকে মোবাইল ফোনে বিয়ে করেন। জিম খাতুন স্থানীয় একটি সরকারি কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। অভিযোগ অনুযায়ী, বিয়েটি কোনো কাজী অফিসে আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধিত হয়নি।
বরং ভিডিও কলের মাধ্যমে বরের পরিবারের উপস্থিতিতে সম্পন্ন করা হয়। বিয়ের পর তাদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল ও দেশে ফিরে সংসার শুরু করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। এদিকে প্রবাসী ওই যুবকের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় বিয়ের অভিযোগও সামনে এসেছে। এলাকাবাসীর দাবি, বাবু মিয়া পার্শ্ববর্তী নওদাবশ গ্রামের সিরাজুল হকের মেয়ে শিরীনা খাতুনের সঙ্গেও একইভাবে মোবাইল ফোনে বিয়ে করেছেন। তিনিও একজন শিক্ষার্থী। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
পাশাপাশি স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে এ বিষয়ে এখনো পর্যন্ত অভিযুক্ত ব্যক্তি বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মালেক, মোঃ শফিকুল ইসলাম, মোঃ মোরশেদ আলী বলেন, ঘটনাটি খুবই নিন্দনীয়। এটি সামাজিক অবক্ষয়।
এ ঘটনার প্রতিকার চান তারা। বড়লই গ্রামের ইউপি সদস্য মোঃ মাহবুল হক খন্দকার বলেন, এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এলাকায় বিভ্রান্তি ও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ী উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান বলেন, বিষয়টি আমার নেই।
খোঁজ নিয়ে দেখবো আসল ঘটনা কী।